রাস্তা বন্ধ করে বাঁশ দিয়ে বেড়া নির্মাণ!

কচুয়া প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের কচুয়ায় চলাচলের পথ নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষ এক পরিবার। এতে ভুক্তভোগী ওই পরিবার ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের সরদার বাড়িতে। ওই পরিবারের ভূক্তভোগী সাথী বেগম ও তার সন্তানদের যাতায়াতের পথ আটকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন প্রতিপক্ষ তার শ্বশুর সফিক পাটওয়ারী, ননদ শিক্ষক সুমি আক্তার, রাজিয়া বেগম ও মিরাজ গং সদস্যরা। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভূক্তভোগী পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৭দিন আগে বাড়ির সামনে পানি চলাচলের সময় ভূক্তভোগী প্রবাসী মামুনুর রশিদের স্ত্রী সাথী বেগম ও তার ছোট জা রাজিয়া বেগমের সাথে পানি চলাচল নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে রাজিয়া বেগমের ছেলে মিরাজ হোসেন সাথী বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় সাথী বেগমকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। পরে শ্বশুর সফিকুর রহমার ও ননদ সুমী আক্তারের নির্দেশনায় বাড়ির সামনে বাশেঁর বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ রাখেন। চলাচলে এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই পরিবারটি। এতে ওই পরিবারটি ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ফলে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে কয়েক বাড়ির পেছনে দিয়ে ঘুরে যেতে হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক সুমী আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আমার বাপের বাড়ি মেঘদাইর যাইনি। ঘটনার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম না, আমি শিক্ষকতা করি। শিক্ষকতা কাজে নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকি। আমাকে মিথ্যা ভাবে জড়াচ্ছে। আমি ঘটনার সম্পর্কে কিছুই জানি না। অপরদিকে রাজিয়া বেগম ও তার ছেলে মিরাজ বলেন, ঘটনা সম্পূর্ন মিথ্যা। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।

ভূক্তভোগী সাথী বেগম জানান, আমার স্বামী সৌদি আরব থাকেন। আমার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। কিন্তু সবসময় আমার ছোট জা রাজিয়া বেগম ও ননদ সুমি আক্তার কোনো কারন ছাড়াই ঝগড়া করে। ঘটনার দিন সামান্য পানি চলাচল নিয়ে আমার সাথে রাজিয়া বেগম ও তার ছেলে অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমার শ্বশুর ঘরের সামনে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তাদের শাস্তি দাবি জানাই।

শ্বশুর সফিক পাটওয়ারী জানান, তারা দুই জা মিলে ঝগড়া করে, কিন্তু আমাকে নিয়ে আমার ছেলে বউ সাথী বেগম অকথ্য ভাষা গালমন্দ করেন। তাই বাড়ির সামনে বেড়া দিয়েছি। আগামী  শুক্রবার সালিশ বৈঠক হওয়ার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া, কখনোই কাম্য নয়।

কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম জানান, একটি পরিবারকে বাশেঁর বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ রাখার  বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থ নেওয়া হবে।