ইসহাক ইসলাম জায়ান :
চাঁদপুর শহরের জোরপুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত সাহিত্য একাডেমিতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র একাডেমির অফিস কক্ষের তালা ভেঙে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্পিকার, চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে এ চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সাহিত্য একাডেমি সম্পৃক্তরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাহিত্য একাডেমিতে লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের বই পাঠ ও গল্প-আড্ডা দেন। পরে রাত ১০টার দিকে অফিস কক্ষসহ একাডেমির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। পরদিন সকালে অফিস সহকারী মো. ফাহাদ একাডেমিতে এসে অফিস কক্ষের দরজার তালা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, অফিসে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্পিকার ও চার্জার ফ্যানসহ বেশ কিছু মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি সে তাৎক্ষণিকভাবে একাডেমির মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করেন।
সাহিত্য একাডেমির কর্মচারি মো. ফাহাদ বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে অফিসে তালা দিয়ে আমি বাসায় চলে যাই। শুক্রবার বিকেলে সাহিত্য সভা হবে তাই সকাল ৯টার দিকে একাডেমিতে আসি। কালাপসেবল গেইটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি সভাপতি ও মহাপরিচালকের রুমের তালা নেই কব্জা ভাঙা। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্পিকারসহ আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম নেই। দ্রুটি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। তাৎক্ষণি অফিসে আসেন একাডেমির মহাপরিচালক মহোদয়।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ এবং জেলা গোয়ান্দা পুলিশ (ডিবি)নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাহিত্য একাডেমির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহহিল কাফী, মহাপরিচালক কাদের পলাশ, পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক, আশিক বিন রহিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক জানান, অফিস রুম এবং মূল গেইটে তালা দেওয়া ছিল। ধারণা করা হচ্ছে চোরচক্র ছাদ বেয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছে। চুরি যাওয়া অফিস কক্ষের কম্পিউটারে আমাদের একাডেমিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, চিঠি, লেখা ছিল।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশ বলেন, চিন্তাশীল ও সৃজনশীল মানুষের জন্য নির্ধারিত সাহিত্য একাডেমি এমনিতেই জরাজীর্ণ। ইতোমধ্যে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছে গণপূর্ত বিভাগ। এর মাঝে অফিসের তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হওয়ার আসলেই বেদনার। এমন কাণ্ডে কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সবচে বড় কথা, কম্পিউটারের সিপিইউতে প্রয়োজনীয় নথি ও ডকুমেন্ট সংরক্ষিত ছিলো।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমিতে এ ধরনের চুরির ঘটনায় লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।


