সুমন আহমেদ:
প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মতলব উত্তর উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে| জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট না বসানোর ব্যাপারে কড়াকড়ি থাকলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী ও ইজারাদাররা ভিন্ন নামে বাজার ইজারা নিয়ে কৌশলে স্কুলের মাঠ ব্যবহার করছেন|
শুক্রবার ও শনিবার, সরেজমিনে উপজেলার মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, সটাকী বাজার সংলগ্ন শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এখলাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও গজরা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে সড়কের পাশে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পশুর হাটের খুঁটি বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে| এতে করে ঈদের পর স্কুল খুললে মাঠের পরিবেশ, দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা|
মমরুজকান্দী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম স্কুল মাঠে হাট বসানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা স্কুল মাঠে গরুর হাট বসানোর জন্য নিষেধ করেছিলাম| কিন্তু স্থানীয় লোকজন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ স্যারের সাথে কথা বলে মাঠটিতে গরুর হাট বসিয়েছে|
নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আরিফ উল্লাহ বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা না করেই স্কুল মাঠে গরুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় লোকজন| আমি যতটুকু জানি গরুর হাট থেকে উঠানো টাকা একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যায়|
সটাকী বাজারের ইজারাদার লাদেন সরকার সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট বসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে| এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইজারাদার লাদেন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি|
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গজরা গরুর হাটের ইজারাদার কবির হোসেন জানান, শিল্পকলা একাডেমি মাঠে গরুর হাট বসানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন|
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ রক্ষায় প্রশাসনের এমন শিথিলতা ও ইজারাদারদের মনগড়া কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল|
এ প্রসঙ্গে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি স্পষ্ট করে বলেন, স্কুল ও কলেজ মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি| এবার জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা রয়েছে| সব ইজারাদারকে বিষয়টি আগেই সতর্ক করে বলে দেওয়া হয়েছে| এরপরও যেহেতু কিছু জায়গায় স্কুল-কলেজের মাঠে হাট বসানো হয়েছে, আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইজারাদারদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি|


