তীব্র গরমে অস্থির মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর:
তীব্র তাপ প্রবোহে অস্থিরতায় ভুগছে চাঁদপুরবাসী। স্বস্তির বৃষ্টি এলে কয়েকদিনের জন্য আবহাওয়া শীতল হলেও ফের শুরু হয় তীব্র গরম। কাগজে-কলমে অন্যান্য জেলার চেয়ে তাপমাত্রা রেকর্ডের পরিমাণ কম হলেও এ জেলায় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল বেশি। আর তাতে তাপমাত্রা কম থাকলে তাপদাহের অনুভূতি হয়েছে বেশি। তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু এবং বৃদ্ধ। জেলায় সকাল থেকেই অনুভূত হতে থাকে তীব্র তাপদাহ। বিকেলে কিছুটা তাপাদহ কমলেও দিনের মত তাপদাহ অনুভূত হয় রাতের বেলা।
তীব্র গরমের মাঝে জেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া । এরপর ৬ মে চাঁদপুরবাসী দেখা পায় স্বস্তির বৃষ্টি। জেলার উত্তপ্ত আবহাওয়া শীতল পরস পায় ফোটা ফোটা বৃষ্টিতে। কয়েকদিন আবহাওয়ার শীতল থাকার পর পুনরায় শুরু হয় তাপদাহ। যা এখন পর্যন্ত চলমান আছে। এর মাঝে এক দুবার ফোঁটা ফোটা বৃষ্টি ঝরলেও স্বস্তি ফেরেনি জনজীবনে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার ২৩ মে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বাতাসে আদ্রতার কারণে যা জেলায় অনুভূত হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মত।
গত ১০ মে থেকে জেলায় ২৩ মে পর্যন্ত তাপদাহের এর মাত্রা ছিল অনেকটা কাছাকাছি। এই সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে উঠানামা করেছে। এ তাপমাত্রা চলতে পারে আরো কয়েকদিন।
এদিকে তাপদাহ প্রবাহমান থাকায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। যার অধিকাংশ শিশু। রোগীদের সেবা নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি আছে ধারণ ক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি।
তাপদাহের ফলে কর্মজীবী খেটে খাওয়া মানুষ পড়ছে বিড়ম্বনায়। কিছুক্ষণ কাজ করার পর তীব্র তাপদাহে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে তারা।
তাপদাহ থেকে বাঁচতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ আসিবুল আহসান চৌধুরী বলেন, তাপদাহ বৃদ্ধিতে বয়স্ক এবং শিশুদের উপর প্রভাব পড়ছে বেশি। পানি শূন্যতা ভাইরাস জ্বর এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে তারা জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। বেশি পানি পান করা, নিয়মিত গোসল করা, তরল খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।