শূয়র
শূয়রগুলো কবে যাবে খোয়ার?
শূয়রের উৎপাতে বিশৃঙ্খল সমাজ;
উদ্ভট গন্ধে বিষাক্ত মগজ।
শূয়রগুলো কবে যাবে খোয়ারে?
শূয়রের গন্ধ, চিৎকার -চেঁচামেচিতে এখন
বাসের অযোগ্য নগর।
সব পাড়াতেই এখন দুচারটা শূয়র থাকে
নোংরা জিনিস খেয়ে নর্দমায় ডুবে তারা ;
সামাজিক পরিবেশে ছড়ায় দুর্গন্ধ!
নোংরা জিনিস শূয়রের খুব প্রিয়
তাই বলে শূয়র ফিরবে না খোয়ারে।
সবাই শূয়র তাড়ানোর মন্ত্র শিখুন
না হয় শিখে নিন কয়দা-কানুন
নইলে শূয়রের অত্যাচারে
মানুষকেই যেতে হবে শূয়রের খোয়ারে!
সবার বাড়িতে শূয়র থাকবে বাধ্যতামূলক
মানুষের ইনকামে পুষবে শূয়র!
শূয়র পুষবে সকলে।
পতাকা
সবুজের এই বাংলাদেশে,নয়টি মাসের…
আঁধার শেষে
একটি নতুন সূর্য ওঠে,স্বাধীনতার সূর্য ওঠে।
তারই সরল প্রতিচ্ছবি
লাল-সবুজের এই পতাকায় স্বচ্ছ হয়ে ফুটে।।
একটি নতুন সূর্য ওঠে,স্বাধীনতার সূর্য ওঠে।
তারই সরল প্রতিচ্ছবি
লাল-সবুজের এই পতাকায় স্বচ্ছ হয়ে ফুটে।।
প্রাণ দিয়েছে লাখো মুক্তি সেনা
এই পতাকা তাদের রক্তে কেনা।
হায়নার দল এই পতাকা কেড়ে নিতে
লাখো মায়ের সম্ভ্রম লুটে।।
যখন সূর্য ওঠে সবুজ বনের ফাঁকে
যেনো পতাকারই মূর্ত ছবি আঁকে।
স্বাধীন দেশে আলোর পিদিম
বছর ভরে আলোর দিয়ে যায় যে ছুটে।
অকৃতজ্ঞ
সময় যখন মন্দ
বিশ্বস্ত কুকুরও তার মনিবকে
অনায়াসে কামড়ে দেয়;
মনে রাখে না
তার শরীরে যে সঞ্চালিত রক্ত
অস্তি-মাংসল তুলতুলে দেহখানা
মনিবের খেয়েই।
অকৃতজ্ঞ পৃথিবী
অকৃতজ্ঞ তার কোটি কোটি সন্তান।
মৃত্যুপুরী
নগরের গাড়িগুলোকে মনে হচ্ছে যমের বাহন।
এদের সঙ্গে আঁতাত করে –
ককটেল, পেট্রোলবোমা কেড়ে নিচ্ছে
নিরীহ জনতার প্রাণ।
এ নিয়ে রাজনীতিপাড়ায় চলে –
হুলস্থুল প্রেস ব্রিফিং।
অবশেষে ‘ উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে’।
এর অর্থবহ কোনো সমাধান নেই!
বার্ন ইউনিটের প্রকাণ্ড পেট পুরে
পোড়া রোগীর ঢেকুর উঠতে দেখি;
প্রতিনিয়ত ইমার্জেন্সি মর্গে দেখি
বিভৎস লাশের শোভাযাত্রা।
অজ্ঞাত অপরাধে’ ডরপ’ বর্গিদের
অস্ত্রের গর্জনে ঝরতে দেখি
অসংখ্য হরিৎ প্রাণ।
প্রশ্ন জাগে মনে
এ আমার দেশ
নাকি মৃত্যুপুরী?
স্বাধীনতা
স্বাধীনতা তুমি শ্বাসরুদ্ধ কবির মুক্ত নিশ্বাস
স্বাধীনতা তুমি বাংলা বলার আত্মবিশ্বাস।
স্বাধীনতা তুমি বন্ধি খাঁচার মুক্ত পাখি
স্বাধীনতা তুমি অন্ধের ফিরে পাওয়া আঁখি।
স্বাধীনতা তুমি ভোর প্রভাতের রাঙা রবি
স্বাধীনতা তুমি শিল্পির প্রচ্ছদে আঁকা ছবি।
স্বাধীনতা তুমি লাখ শহিদের প্রাণের বিনিময়
স্বাধীনতা তুমি রুখে দিয়েছ হানাদারদের নাট্য অভিনয়।
স্বাধীনতা তুমি বিজয়ের চির উন্মেষ
স্বাধীনতা তুমি হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ।
উকুন
আজকাল সীমান্ত পেরিয়ে
উদ্ভট কতক উকুন ঢুকেছে
বাঙালি সংস্কৃতির পরিপাটি
চুলের পরতে পরতে।
উদ্বাস্তু পরজীবীরা
আমাদের সংস্কৃতির রক্ত চুষে
ফুলে-ফঁপে জগদ্দলের মতো–
মাথায় চেপে বসতে চলেছে।
সংস্কৃতির মাথায়
ভিনদেশি উকুনের বসতি
আমরা মন থেকে চাই নি
শুধু চাই
নিজেদের নির্মল সংস্কৃতি সুস্থ থাক্,
চিরকাল বেঁচে থাক্।
সেই লক্ষ্যে স্বদশের পক্ষে
মিছিলের মত দলে দলেে
এসো বন্ধুরা …
সংস্কৃতির কুন্তলে সূক্ষ্ম চিরুনী চালাই।
তবু যদি মাথা না ছাড়ে
ঘাপটিমারা উকুন!
তারপর এসো বন্ধুরা
সঙ্গে একদল বাঁদর এনো
সংস্কৃতির মস্তকে…
উকুনের জম বাঁদর চড়াবো।


