চাঁদপুর মা হলেন পাগলী; নবজাতকের দায়িত্বে প্রশাসন

স্টাফ রির্পোটার:

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন (ভবঘুরে) তরুণী ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে প্রসবের পর কয়েকঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি নবজাতকের পিতৃপরিচয়। জানা যায়নি ওই তরুণীর নিজের ঠিকানাও। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সুস্থ আছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী একই কাপড়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁর অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করলেও তাঁর আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শাহনাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী জানান, তিনি প্রথমে তরুণীটিকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ও প্রসব বেদনা লক্ষ্য করে তিনি দ্রুত রাত এগারোটার দিকে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে আনার সাথে সাথেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানেই তিনি একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, প্রসূতি ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই তরুণী তাঁর নিজের নাম-পরিচয় বা সন্তানের বাবার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।
শনিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও নবজাতকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য তাদের একটি বিশেষ কেবিনে রেখেছে। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার কমান্ডার শাহজাহান জানান, তরুণীটির ও বাচ্চার নিরাপত্তার বিষয়টি তারা কড়া নজরদারিতে রেখেছেন।

চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন,”রোগী ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যদি এই নারীর কোনো স্বজন থেকে থাকেন, তবে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এদিকে ফুটফুটে এই শিশুটিকে দত্তক নিতে বা লালন-পালন করতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। উদ্ধারকারী নারী শাহনাজ বেগমও আশা প্রকাশ করেন, শিশুটিকে যেন এমন একটি স্বাবলম্বী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা তাকে সুশিক্ষায় ও ভালোবাসায় বড় করতে পারবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। নবজাতকের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবার’শিশু কল্যাণ কমিটি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া ও আবেদনের প্রেক্ষিতে উপযুক্ত কোনো পরিবারের কাছে তাকে লালন-পালনের জন্য হস্তান্তর করা হতে পারে।