কবরস্থানের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা?

স্টাফ রিপোর্টার

হাজীগঞ্জে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পারিবারিক কবরস্থানের প্রধান ফটক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।ঘটনাটি ঘটেছে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং পশ্চিম বড়কুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মিজি বাড়িতে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মৃত মমতাজ উদ্দিনের পারিবারিক কবরস্থানের প্রধান ফটকটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে একই বাড়ির মৃত নুরু মিয়ার ছেলে সোহাগ গংদের সঙ্গে মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম গংদের বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। এরই মধ্যে শাহ আলম গংদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে তারা হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় সোহাগ গংদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় কবরস্থানের গেট ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

শাহ আলমের ভাই মাকসুদ আলম জানান, জায়গা-জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা ও জায়গা দখলের চেষ্টা করা হলে তাঁরা হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় প্রতিপক্ষের লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শাহ আলমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সোমবার সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখতে পান, সোহাগ হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে তাদের পারিবারিক কবরস্থানের গেট ভেঙে ফেলেছেন। ভয়ে তিনি তখন প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে জানান।

মাকসুদ আলমের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকি-ধমকির কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহাগের ছোট ভাই রিপন। তিনি বলেন, ভুলবশত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তাদের জেল খাটতে হয়েছে। কিন্তু তারা কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেননি এবং কবরস্থানের গেটও ভাঙেননি।

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানের গেট ভাঙার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।