নিয়মিত চর্চা প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে সফল্য এনে দেয় : মোহাম্মদ আজম

স্টাফ রিপোর্টার:

কখনো গুড়িগুড়ি, কখনো ভারি বর্ষণ। শীতল আবহাওয়ায় কেউ ভিজে কেউ বা কালো রঙীন ছাতা মাথায় জড়ো হলেন সাহিত্য একাডেমিতে।এরপর মিহি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বের হয় বর্ণাঢ্যর‌্যালী। র‌্যালীটি শহরের প্রধানপ্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেওবর্ষার অঝরধারা উপেক্ষা করে উপস্থিত হন নবীন প্রবীণ সাহিত্যিকরা। একে একে চলে আসেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। লোকসংস্কৃতি গবেষক বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক তপন বাগচী এবং বরেণ্য কথা সাহিত্যিক নাসিমা আনিস। নির্ধারিত সময়ের আগেই চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপস্থিত হয় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দশদিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীসহ অভিভাবকরা। এমন চিত্র দেখা যায়চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও কেক কাটা অনুষ্ঠান ঘিরে।

চার দশকের সাহিত্যচর্চার গৌরবময় অভিযাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দশদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, কেক কাটা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আনন্দধ্বনি সংগীত শিক্ষায়তনের শিল্পীরা। এরপর কবিদের কবিতা পাঠ এবং আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরাও নিজেদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, চাঁদপুরের মতো একটি জেলা শহরে এমন আয়োজন নিশ্চয় সাহিত্যের জন্য আশাব্যঞ্জক। এখন আর প্রান্ত আর কেন্দ্র নেই। যে যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন অনন্য উচ্চতায়। নিয়মিত চর্চা প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে সফল্য এনে দেয়।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. তপন কুমার বাগচী, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস।
সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাহিত্য একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যবৃন্দ।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। এর আগে কবিতা পাঠ পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক ও সংগঠক ইলিয়াস ফারুকী। পর্বটি সঞ্চালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয় এবং বিভিন্ন সাহিত্য ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য) আশিফ বিন রহিম।

চার দশকের সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ সমাপনী অনুষ্ঠান কবি, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।