স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী বাজার-চরভৈরবী প্রধান সড়কের চরভৈরবী পাঠান মোড় সংলগ্ন অংশে সড়কের নিচে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও মাটি ধসে পড়ায় সড়কটির একাংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একপাশে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়ে নিচে সুড়ঙ্গের মতো ফাঁপা অংশ তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে পুরোপুরি বোঝা না গেলেও নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, আষাঢ় মাসের টানা বৃষ্টিতে সড়কের পাশের মাটি ধসে যায়। পরে বৃষ্টির পানির প্রবাহে ভেতরের মাটি ক্ষয়ে গিয়ে এ সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সামান্য অসাবধানতায়ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ সড়কটি আলগী বাজার, চরভৈরবী, হায়দারগঞ্জ, শহর আলী মোড়, হাইমচর বাজার, পাড়া বগুড়া, গাজীপুর, চর আবাবিল ও জালিয়ার চরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এ পথে চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যান চলাচল করায় দুর্ঘটনার শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন গাজী বলেন, “ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো সড়ক কেঁপে ওঠে। এতে নিচের ফাঁপা অংশ আরও বড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড কিংবা লাল পতাকার মতো ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা নিজেদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটি, রাবিশ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলেছেন। তবে প্রকৌশলগতভাবে মেরামত না হওয়ায় এ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। সচেতন নাগরিকদের মতে, ওপরের অংশ ভরাট হলেও নিচের সুড়ঙ্গ অক্ষত থাকায় যেকোনো সময় পুরো অংশ ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহন করা হয়। ফলে সড়কটির বর্তমান অবস্থা শুধু জননিরাপত্তার জন্যই নয়, স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করে প্রকৌশলগতভাবে সংস্কার, নিচের ফাঁপা স্থান পূরণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি ব্যারিকেড দিয়ে নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করে মানুষের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কার অবসান ঘটানো হবে।


