নেই সোনালি দিন ইলিশের আকাল

স্টাফ রিপোর্টার:

একসময় ভরা মৌসুমে ট্রলারভর্তি ইলিশ আর জেলেদের কোলাহলে মুখর থাকত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চাঁদপুর মাছঘাট। নদী থেকে আসা মাছভর্তি ট্রলারের দীর্ঘ সারি, বাঁশের ঝুড়িতে ইলিশ ওঠানোর ব্যস্ততা আর আড়তজুড়ে বেচাকেনার দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই সোনালি দিন যেন এখন শুধুই স্মৃতি। জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বছর বছর কমছে চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের আমদানি।

ভরা বর্ষা ও ইলিশ মৌসুমের মধ্যভাগ চললেও চাঁদপুর মাছঘাটে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ আসছে না। আগে যেখানে নদী থেকে মাছভর্তি ট্রলার সরাসরি ঘাটে ভিড়ত, এখন সেখানে অল্প কিছু ইলিশ পিকআপ ভ্যানে করে আনা হচ্ছে। ফলে আগের মতো জমে উঠছে না মাছের আড়ত।
ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঘাটের শ্রমিকরা। মাছ ওঠানো-নামানো ও বাছাইয়ের কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমেছে। একই সঙ্গে মন্দা নেমেছে আড়তদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। জেলেরা বলছেন, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আগের মতো ইলিশ মিলছে না। জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেলেও সেই তুলনায় মাছ না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ছেন।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক বলেন, “একসময় চাঁদপুর মাছঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার ঝুড়ি ইলিশ বিক্রি হতো। এখন সেই চিত্র আর নেই। সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ও আগের গতি নেই।”

সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারেও বেড়েছে ইলিশের দাম। বর্তমানে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ আড়তে বিক্রি হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় এই মাছ।

তবে ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান মনে করেন, শুধু উৎপাদন কমে যাওয়াই একমাত্র কারণ নয়। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন মাছের মোকাম গড়ে ওঠায় অনেক জেলে ও বোট মালিক সরাসরি সেসব মোকামে মাছ বিক্রি করছেন। ফলে চাঁদপুর মাছঘাটে আগের মতো ইলিশের সরবরাহ দেখা যাচ্ছে না।

চাঁদপুর মাছঘাটসংশ্লিষ্টদের আশা, নদীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আবারও ট্রলারভর্তি রুপালি ইলিশে মুখর হয়ে উঠবে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই মাছঘাট।