স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১ নম্বর সাচার ইউনিয়নের বায়েক সরকার বাড়িতে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জায়গা দখল করে জোরপূর্বক ঘর ও ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে ভেঙে পড়া ঘর পুনর্র্নিমাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বায়েক সরকার বাড়ির আব্দুল খালেকের ছেলে প্রবাসী তাফাজ্জল হোসেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে তার ফুফু হনুফা বেগম, শরুফা বেগম ও রুশিয়া বেগমদের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃদ্ধ হনুফা বেগমের জায়গার গাছপালা কেটে ফেলা ও শৌচাগার ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রুশিয়া বেগমদের দখলীয় ও ভরাট করা জায়গায় ঘর নির্মাণের স্থান দখল করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাফাজ্জল হোসেনের বড় ভাই নুরুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও হনুফা, শরুফা ও রুশিয়া বেগমদের জায়গা দখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ন্যায়বিচারের আশায় রুশিয়া বেগমরা চাঁদপুরের মোকাম বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও তাফাজ্জল হোসেন স্থানীয় একটি মহলের সহযোগিতা নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে, হনুফা বেগমের ছেলে নুরুন্নবীর প্রায় এক বছর আগে ভেঙে পড়া ঘর পুনর্র্নিমাণ ও মেরামতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘরটি ভেঙে পড়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। থাকার উপযুক্ত ঘর না থাকায় বাধ্য হয়ে নুরুন্নবী পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির মসজিদে রাতযাপন করছেন বলে জানান।
নুরুন্নবী অভিযোগ করে বলেন, “আমার ঘর প্রায় এক বছর আগে ভেঙে পড়েছে। এখন সেটি পুনর্র্নিমাণ করতে গেলেই নানা ধরনের বাধা, হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘর নির্মাণের জন্য রাখা কাঠও ঘুনে পচে যাচ্ছে। থাকার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মসজিদে রাত কাটাতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘর নির্মাণে বাধা ও হুমকির কারণে তারা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তার মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয় নিয়েও পরিবারটি দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ৩ নম্বর বায়েক মৌজার সিএস ৫৩৯, আরএস ৬৯১ ও বিএস ৮৪ নম্বর খতিয়ানের বাড়ির ১৫ শতাংশ জায়গা তারা ওয়ারিশসূত্রে বুঝে পেতে চান। এ বিষয়ে তারা উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী তাফাজ্জল হোসেন বলেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির পাশাপাশি তার ফুফু মমতাজ বেগমের কাছ থেকে জমি কিনে ওই জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড ও মামলার নথিপত্র যাচাই এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


