স্টাফ রিপোর্টার:
মতলব উত্তরে অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার পরকীয়া প্রেমিকা সোনিয়াকে নিয়ে ফরাজীকান্দি উয়েসীয়া দরবার শরীফ সংলগ্ন ঝুপড়ি ঘরে অনৈতিক কাজে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সাহাবাজকান্দি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল আল মামুন উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করেন। তার সাথে মতলব দক্ষিণ উপজেলার দিঘলদী গ্রামের মোকসেদ আলী খন্দকারের মেয়ে সোনিয়ার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
গত সোমবার সে তারপর পরকীয় প্রেমিকা সোনিয়ার সাথে ফরাজীকান্দি উয়েসীয়া দরবার শরীফ সংলগ্ন ঝুপড়ি ঘরে অনৈতিক কাজ করার সময় আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে সে রাগে ও ক্ষোভে অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মতলব উত্তর থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
ফরাজীকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তার হোসেন জানান, ওদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় জনতা। এ বিষয়ে আর্থিক কোন লেনদেন হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে আবদুল আল মামুনের পিতা নুরুল ইসলাম জানান, আমার ছেলে যে কাজটা করেছে সেটা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী কাজ আমি এই ঘটনায় সমাজে হেয় পতিপন্ন হয়েছি এবং যে মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক (সোনিয়া) তার স্বামী আছে। আমার ছেলের বয়স ২৪ আর সোনিয়ার বয়স ৩০।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আল মামুন বলেন, সোনিয়া আক্তার আমার বান্ধবী হয় আমাদের দীর্ঘদিনের প্রেম আমি তাকে বিয়ে করবো। যাদের বিরুদ্ধে আমি চাঁদাবাজির মামলা করেছি, তাদের সাথে আপোষ মীমাংসা করার জন্য আজকে চাঁদপুর আদালতে এসেছি। তাদেরকে জামিনও করিয়েছি।
সোনিয়া কি বিবাহিত না অবিবাহিত জানতে চাইলে আব্দুল আল মামুন ফোন রেখে দেন।
চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদৌস শাহীন বলেন, পেনাল কোডের ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় কোনো মামলা হলে অভিযোগের বিষয়ে অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কোনো ধরনের তদন্ত বা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে আটক করে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া আইনগতভাবে সমীচীন নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে, আইন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, কোনো মামলা এফআইআর হিসেবে রুজু হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে কেউ অভিযোগ দিলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামী হলেন, মসজিদের ইমাম মেজবাহ উদ্দিন (৩২), মো. গোলাম হাবিব সুজন (৩৫) ও স্বাস্থ্য সহকারী জিসান মাহমুদ (৩৮) আটক করা হয়।


