স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে টাস্কফোর্স। শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে পরিচালিত হয় এই অভিযান। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করার লক্ষ্যে সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, লালপুর বাজার, হরিনা ফেরীঘাট, মতলব উত্তর উপজেলার বোরোচর, চর উমেদ, হাইমচর উপজেলার কাটাখালি ঘাট, চরভৈরবী মাছঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (২১ বীর) অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব , নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, কোস্টগার্ড কমান্ডার সাব লেফট্যানেন্ট মো: ফজলুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক এবং সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহম্মেদ।
বিশেষ এই অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং নৌ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা ।
টাস্কফোর্স কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩ জেলেকে আটকসহ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৪ উপলক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স কর্তৃক ইলিশ সম্পদ রক্ষার্থে প্রথম থেকেই জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিং, সচেতনতামূলক সভাসহ নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এরপরেও আইন অমান্য করে যেসকল জেলে নদীতে জাল ফেলে ইলিশের প্রজননে বাধা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও আমিষের চাহিদা মিটাতে ইলিশ সম্পদ রক্ষার্থে মাঠ প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির পাশাপাশি কঠোর নজরদারি করা যেমন দরকার, ঠিক একই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা ও জেলেদের সচেতন হওয়া একান্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ইলিশের অভয় আশ্রম চাঁদপুর জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে গত ১৩ অক্টোবর হতে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পাশাপাশি এসময় ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
(চাঁদপুরে টাস্কফোর্সের অভিযান শেষে আটক জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হচ্ছে)


