রিফাত কান্তি সেন:
কুয়াশাছন্ন ভোর। রবির আলো মিটি মিটি করে জ্বলছে। পনের থেকে আশি বয়সের নারী পুরুষ রওনা হয়েছেন চাঁদপুর সরকারী কলেজ মাঠে। লক্ষ্যে তাঁদের মিনি ম্যারাথনে অংশ নেয়া। জয় পরাজয়ের বাঁধা মারিয়ে ম্যারাথনে অংশ নিতে পারাকেই বড় করে দেখছেন আয়োজনে অংশ নেয়ারা। “চলেন হাঁটি”র এমন উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। সে গল্পই জানাচ্ছেন, রিফাত কান্তি সেন…
“চলেন হাঁটি” একটি উদ্যোগের নাম। সেই উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত ক্রিড়া সংগঠনে রুপান্তর হয়েছে এটি। সাংবাদিক আলম পলাশের হাত ধরে সংগঠনটির যাত্রা।
“সুস্থ দেহ সুস্থ মন, হাঁটব আমি যতক্ষণ” এ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ২৩-১১-২৪ শনিবার ভোর সাড়ে ছয়টায় চাঁদপুর সরকারী কলেজ মাঠে পায়রা উড়ানোর মধ্যে দিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন ও পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুর রকিব ম্যারাথনের উদ্ধোধন করেন। এসময় প্রায় চার’শ প্রতিযোগী অংশ নেন ম্যারাথনে।
প্রতিযোগিতায় পুরুষরা ৬ কিঃমিঃ, নারীরা ৩ কিঃমিঃ হাঁটেন। নারী পুরুষের চারটি দল অংশ নেয় এতে। ১৫ থেকে ৪৫ এবং ৪৬ থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারী ও পুরুষের দুটো দল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে হাঁটা শুরু করে শহরের বিভিন্ন এলাকা হেঁটে আবার কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শেষ করেন।
এদিন চাঁদপুর সরকারী কলেজ মাঠে ছিল ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সম্মত স্ন্যাক’স। ছিল মন্তব্য করার ব্যবস্থাও।
কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আবদুল মান্নান। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আলম পলাশের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহম্মদ মহসিন হোসেন। তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকার জন্য হাঁটা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মনকে ভালো রাখার জন্য ভালো পরিবেশে আসতে হবে নানা কাজ শেষে সকালে যখন হাঁটবেন এবং সবার সঙ্গে দেখা হবে, তখন নিজের নানা বিষয়ে কথা হলে মন হালকা হবে এবং ধীরে ধীরে মন সুস্থ হতে থাকবে। হাঁটা জন্য যখন সকলে একত্রিত হবেন তখন নিজেদের মধ্যে একটি সামাজিক বন্ধন তৈরি হবে। এটিও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ৪টি দলের ৩ জন করে মোট ১২ জনকে মেডেল, সনদ ও ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
যেভাবে চলেন হাঁটির যাত্রা শুরুঃ
আলম পলাশ একজন ডায়াবেটিস রোগী। হাঁটতেন শহরের অলিগলিতে। একদিন সকালে হাঁটতে গিয়ে ব্যাটারি চালিত রিক্সার সাথে ধাক্কা লেগে মারাত্বক এক্সিডেন্ট হন তিনি। তখন থেকেই তার মাথায় ঘুরপাঁক খেতে থাকে কোথায় হাঁটা নিরাপদ। তিনি দেখলেন চাঁদপুর সরকারী কলেজের ওয়ার্কওয়েটি খুব চমৎকার ভাবে সাজানো হয়েছে। তাই তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে একটি উদ্যোগ “চলেন হাঁটি” কার্যক্রম শুরু করেন। আর তারপর থেকেই এটি সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন হিসাবে জন্মলাভ করে।


