ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর ঘর নির্মাণ বাঁধা 

শামীম হাসান:
সম্পত্তিগত বিরোধে নিজেদের ধায়ের করা মামলায় আদালতের দেয়া রায় নিজেদের পক্ষে না হওয়ায় অপর পক্ষের ভবন নির্মানে বাঁধা, হামলার চেষ্টা, হুমকি ও নানা রকম টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে একটি পারিবারের বিরুদ্ধে। 
স্বল্প সময়ের জন্য ছুটিতে আাসা প্রবাস ফেরত শরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমি বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করলে রফিক-শফিকুররা সম্পত্তি পাবে বলে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপেক্ষিতে বিএস-৭৭৫ নং খাতিয়ানে ৫১০১ দাগের উপর ১৪৫ ধারা জারী করে। সহকারী কমিশনার (ভুমি) কতৃক মামলার তদন্তের পর আদালতের দেয়া রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে আমি আমার সম্পত্তির উপর বিল্ডিং নির্মানের  কাজ শুরু করি। আদালতের রায় মেনে ঘর নির্মাণের কাজ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী রফিক-শফিকুরের মাধ্যমে হেনস্তা ও হুমকির শিকার হই।
গঠনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কড়ৈতলীর এলাকার পালের বাড়িতে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল ২০২৫) সকালে সরজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের গৃহবধূ সেলিনা বেগম ও আঁখি বেগমের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমাদের ৬ শতাংশ জমি মানুষের দখলে আছে৷ আমরা কোর্টে মামলা দিছি কিন্তু তারা রায়  নিয়ে আসছে। অভিযোগের সুরে বলেন আমাদের শাশুড়ীকে জখম করেছে তারা৷  আপনাদের শাশুড়ীকে কে জখম করছে কিভাবে করেছে? এমন প্রশ্ন করলে তার কোন উত্তর দিতে পারেননি সেলিনা বেগম ও আঁখি বেগম৷
এদিকে হুমকি ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগী প্রবাসী শরীফ হোসেনের বাবা মো. রুহুল আমিন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷
পূর্বেও এবিষয়ে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রতিবারের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত রফিক-শফিকুরের পরিবার মেনে নেয়নি বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা৷ সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে পূর্বের কয়েকটি বৈঠকে উপস্থিত থাকা লোকমান হোসেন দর্জি জানান, এসিল্যান্ডের তদন্ত এবং আদালতের রায় দেয়ার পর আমরা স্থানীয় ভাবে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সামনের দিকে কোন ঝামেলা করবে না বা হবে না এই শর্তে মানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু রফিক-শফিকুরের পরিবার স্থানীয় সাল্লিশ মানে না, আইন শৃঙ্খলা মানে না। তারা বাহিরের থেকে বহিরাগত নিয়া আসে ও যথেষ্ট হট্টগোল করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ঘটায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেশি রহিমা বেগম জানান, সেদিন ডাক-চিৎকার শুনে  এগিয়ে আসলে রফিকের মা আমাকে গালমন্দ করে৷ পরে শুনেছি রফিক-শফিকুরের মাকে তার ছেলের বউ ঘরের ভিতরে নিয়ে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে শরিফদের উপর দোষ ছাপাচ্ছে। সেদিন কেউ কাউকে মারতে বা কিছু করতে দেখিনি।