চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক যেন মরণফাঁদ, ভোগান্তিতে যাত্রী ও গণপরিবহণ

সাগর আচার্য্য:
সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত, জমে আছে পানি। উঠে গেছে রাস্তার পিচ ঢালাই, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর। এ যেন সড়ক নয়, মরণফাঁদ। টানা বৃষ্টিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজিগঞ্জ থেকে মুদাফফরগঞ্জ অংশে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গণপরিবহণ ও যাত্রীরা। মাঝেমধ্যে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

মূলত সংস্কারের অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারহীন থাকায় পুরো সড়কজুড়ে ছোট ছোট খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষত আরও বৃদ্ধি পেয়েছে টানা বৃষ্টিতে।

গতকাল রবিবার (২৪ আগস্ট) এই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

সড়কের বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই যাত্রীদের এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেকে সময় যাত্রীরা সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আহত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে গণপরিবহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এঁকেবেঁকে হেলেদুলে। যা চালকদের জন্যে অস্বস্তিকর। রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা অনেকটা অসম্ভব।

সড়কটির পুরো অংশই কম বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এর মধ্যে সড়কটির আলীগঞ্জ, ওয়ারুক, শাহারাস্তি, কালিয়াপাড়া, দোয়াভাঙ্গা, জগতপুর, খাজুড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর বাজার অংশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শাহারাস্তি থেকে জগতপুর অংশে  সৃষ্ট গর্ত বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। তাই সেখান দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে পারাপারে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। এজন্য যানবাহনের ধীরগতির কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। ভোগান্তি পোহাতে হয় জনসাধারণকে।

জানা গেছে, বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে একহাজারের বেশি অটোরিকশাসহ শত শত বাস, ট্রাক, পণ্যসামগ্রী পরিবহণ ও তেলের লরী চলাচল করে। কিন্তু সড়কটি চলাচলের পুরো অযোগ্য হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, এই সড়কটি চাঁদপুর ও কুমিল্লাবাসীর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকেন। এতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন পর্যন্ত সংস্কার না করায় টানা বৃষ্টিতে পুরো সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

কর্মজীবীদের কর্মস্থলে যাতায়াতে অনেক কষ্ট করতে হয়। তবে কবে নাগাদ এই কষ্টের অবসান ঘটবে তা জানা নেই তাদের। অতিদ্রুত সড়কটির সংস্কার দাবি করেছেন তারা।

বাস চালক ফারুক হোসেন বলেন, সড়কের দুরাবস্থার কারণে বড় বড় যানবাহনগুলোই হেলেদুলে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনরকম এদিক ওদিক হলেই ঘটে যাবে বড় কোন দুর্ঘটনা। বাস ও ট্রাক নিজেদের সক্ষমতায় কোনোভাবে চলাচল করতে পারলেও ছোটখাটো যানবাহনগুলো এই সড়কে চলাচল করা অসাধ্য ব্যাপার। অধিকাংশ সময় অটোরিকশা হেলে যায়। এতে অনেক যাত্রী পড়ে আহত হচ্ছেন।

ট্রাকচালক আলমগীর মিজি জানান, সড়কটির অধিকাংশ স্থানেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাদের মালামাল নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে গেছে।

প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরিজীবী কাউছার আহমেদ  বলেন,  প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা ও ভারী যানবাহন এসব ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন করুণ দশা কর্তৃপক্ষের অবহেলারই প্রমাণ।

এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীসধারনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের এমন বেহাল দশা দ্রুত মেরামত করে জনসাধারণকে স্বস্তি দেওয়া হোক।