মতলব প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড (স্বর্ণপদক) জয় করেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী এম. এ. সায়েম প্রিয়ন্ত। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ‘১ম ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ এবং ‘ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ’ প্রতিযোগিতায় তিনি এই অনন্য গৌরব অর্জন করেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে জাকার্তার ইউনিভার্সিটি নেগরি মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস রেক্টর (কোঅপারেশন অ্যান্ড বিজনেস) ড. অ্যন্ডি হাদিয়ান্তো বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে এই পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।
এর আগে ৪ ও ৫ জুন (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ১৭টি দেশের ৪৭০টি দলের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী বৈজ্ঞানিক সৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ ৩০টি দলকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়, যার মধ্যে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির (ইংরেজি ভার্সন) শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের উদ্ভাবনটি শীর্ষ স্থান দখল করে।
প্রিয়ন্তের এই বিশ্বজয়ে তার পরিবার, স্কুল ও পুরো চাঁদপুর জেলায় বইছে আনন্দের বন্যা। প্রিয়ন্তের বাবা মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মো. ওমর ফারুক অভি এবং মা মতলব দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম নাগদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার সন্তানের এমন অভূতপূর্ব সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত ও উদ্ভাসিত। তারা সন্তানের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, জাপান প্রবাসী বেলায়েত হোসেন জুলহাস এবং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন কামাল অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয় সর্বদা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রিয়ন্তের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে এমন নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আমাদের ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রিয়ন্তের এই যুগান্তকারী অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নতুন নতুন উদ্ভাবনী গবেষণায় আরও বেশি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে। মতলবের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর হাত ধরে আগামী দিনে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চাঁদপুরবাসী।


