স্টাফ রির্পোটার:
চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় একাডেমির ভবন পুনর্নির্মাণ, সংশোধিত গঠনতন্ত্র, তহবিল বৃদ্ধি, ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশ।
সভার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন করা হয়। এরপর সাহিত্য একাডেমির নিজস্ব ভবন পুনর্নির্মাণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভবন নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা এবং পরিত্যক্ত ভবন নিলামে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
সভায় সাহিত্য একাডেমির সংশোধিত খসড়া গঠনতন্ত্র নিয়ে সদস্যদের লিখিত প্রস্তাব ও মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে সেই মতামতের ভিত্তিতে খসড়া গঠনতন্ত্র সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সাহিত্য একাডেমির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তহবিল সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সভায় একাডেমির আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
সভায় কর্মচারীদের অব্যাহতি ও নতুন নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সাহিত্যিকরা শুধু সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং সমাজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশই একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, আজকের সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে। একাডেমিকে জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল কবির, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সুমন কুমার দত্ত, মির্জা জাকির, মনিরুজ্জামান বাবলু, উজ্জ্বল হোসাইনসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্য।


