স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা সদর আলগী বাজার থেকে জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান ও কার্যত একমাত্র বাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নির্ধারিত স্ট্যান্ডের অভাব, যাত্রী বাছাই এবং কথিত পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। পাশাপাশি যত্রতত্র সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীরা।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আলগী বাজার সিএনজি পার্কিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বহু যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও বেশ কয়েকটি সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও অনেক চালক যাত্রী নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, বৃষ্টিকে অজুহাত করে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে অনেক যাত্রীকে বহন করা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব, বৃষ্টি কিংবা যাত্রীর চাপ বাড়লেই ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াও দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলগী বাজারের কোতওয়াল মোড়, বিসমিল্লাহ মোড়, থানা রোড, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যত্রতত্র সিএনজি পার্কিং করা হচ্ছে। এতে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে দোকানে ক্রেতা আসতে সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় মালামাল ওঠানো-নামানোও ব্যাহত হয়, ফলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আলগী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতওয়াল বলেন, বাজারটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় সরকারি খাস জমি নেই। তাই নির্ধারিত সিএনজি স্ট্যান্ড করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭০-৮০ টাকার ভাড়ার স্থানে যাত্রীদের ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিষয়ে জেলা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। স্ট্যান্ডের অভাবে সমস্যা বাড়ছে। নির্ধারিত সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করা গেলে পার্কিং বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় যাত্রী, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, নির্ধারিত স্ট্যান্ড স্থাপন, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে হাইমচরের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি আলগী বাজারেও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।


