স্টাফ রিপোর্টার:
মতলব উত্তর উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা জুড়ে গত তিন মাসে ১২ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকাসহ অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রাহকরা।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ -এর আওতাধীন মতলব উত্তরে গত তিন মাসে মোট ১২ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে সর্বোচ্চ ৬ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। অধিকাংশ ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতা ৫ থেকে ২৫ কেভিএ।এই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রাম থেকে ২৫ কেভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। পাঁচ দিন পর গ্রাহকদের অর্থ সংগ্রহ করে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। গত রাতে সুলতানাবাদ ইউনিয়নের দাসের বাজার এলাকা থেকে একটি ২৫ কেভিএ ট্রান্সফর্মার চুরি হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রের ধারণা, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার কয়েল ও তারই চোরচক্রের মূল লক্ষ্য। তারা তামা খুলে নিয়ে বাকি যন্ত্রাংশ ফেলে রেখে যায়।
বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর প্রায় ১ লাখ টাকা এবং ২৫ কেভিএর প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ট্রান্সফরমার প্রথমবার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার পেতে গ্রাহকদের ৫০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। একই ট্রান্সফরমার দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।
দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা সাগর হোসেন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর কয়েকদিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের পর গ্রাহকদের ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে হয়েছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ধরনের চুরি ঠেকাতে জনগণের আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে তারা যাতে ট্রান্সফরমার কোয়েলের তার না কিনে কিনলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


