বিল্লাল ঢালী:
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইলিশ মাছের মোকাম চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে ইলিশের যোগান কমেছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) এখানে বেচাকেনা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ মন ইলিশ মাছ। অপরদিকে মাছের যোগান কম থাকায় মাছ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ দামে।
এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা বিক্রেতার হাক ডাক নেই ঘাটে। অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। ক্রেতা সমাগম একেবারে কম। মাত্র কয়েকজন ইলিশ বিক্রেতা মাছ নিয়ে বসে আছেন। তাও মাছের পরিমাণ একেবারে কম। মাছের পরিমাণ কম হলেও দাম ছিল বেশ।
এদিন এখানে ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ১৬শ টাকা কেজি প্রতি। আর ৮শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ২২শ টাকা কেজিপ্রতি। এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ২৫শ থেকে ২৭শ টাকা কেজিপ্রতি। এছাড়াও দের কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কেজিপ্রতি। যা কিছুদিন পূর্বে বিক্রি হওয়া মাছের দামের প্রায় দ্বিগুণ মূল্য।
কিছুদিন পূর্বে এখানে ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৯শ টাকা কেজি প্রতি। ৮শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা কেজি প্রতি। ১ কেজি বা তার উপরে ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ১৬শ থেকে ১৭শ টাকা কেজি প্রতি। এছাড়াও দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ২২শ টাকা কেজিপ্রতি।
ইলিশ মাছের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, ইলিশের মৌসুম শেষ। চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনায় মাছ ধরা পড়ছে না। এতে করে ইলিশের যোগান একেবারে কমে গেছে। যোগান কমলেও ইলিশের চাহিদা কমেনি। মাছ কম , চাহিদা থাকায় মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে ইলিশ মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, ঘাটে মাছ কেনার উদ্দেশ্যে এসেছি। এখানে এসে দেখি মাছ একেবারেই নেই। অল্প কিছু মাছ আছে তাও দাম অনেক বেশি। আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা কেজি দিয়ে মাছ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। মৌসুম শেষ ও মাছ না থাকার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা মাছের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছেন অভিযোগ করেন তারা।
ইলিশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শবে বরাত বলেন, ইলিশের মৌসুম শেষ। নদীতে মাছ এখন স্বাভাবিকভাবে কম পাওয়া যাবে। এতে মাছের যোগান কম থাকবে। তাই বর্তমান বাজারে মাছের যে দাম অব্যাহত আছে সহসা তা কমার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। মাছের দাম কমার জন্য আগামী মৌসুম শুরু হাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ক্রেতাদের। আশা করছি তখন মাছের যোগান বৃদ্ধি পাবে দাম ও কমে আসবে।
(চাঁদপুর ইলিশ অবতরণ কেন্দ্রে মাছ ও ক্রেতা সমাগম কম)


