সাগর আচার্য্য:
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলরত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের রেষারেষিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যাত্রীদের জীবন।
সাইড দেওয়া বা নেওয়া নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এসব নিয়ে মাঝেমধ্যে রাস্তায় বাস থামিয়ে দুই পরিবহনের চালক ও স্টাফদের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
আবার বাসে যাত্রী নেওয়ার সময় একটি বাস আরেকটি বাসকে যেন ওভারটেক না করতে পারে সেজন্য রাস্তার মধ্যিখানে গাড়ি রেখে যাত্রী তোলার অভিযোগ আছে দুই পরিবহনের বিরুদ্ধে।
গতকাল বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ২টায় দেখা যায়, চাঁদপুর থেকে কুমিল্লাগামী আইদি পরিবহনের একটি বাসের পেছনে ছিলো বোগদাদ পরিবহনের একটি বাস। আইদিকে ওভারটেক করার জন্য পেছন থেকেই বোগদাদ বাসটি মরিয়া হয়ে উঠে। পরে আইদি আলীগঞ্জ থেকে যাত্রী নেওয়ার সময় বোগদাদ বাস চালক কিছুটা চালাকি করে আইদিকে ওভারটেক করে সামনে চলে যায়। ব্যস! এবার শুরু দুই বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যাত্রীরা বারবার এসব প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে বাস চালকদের ডাক দিলেও তাতে কিছুসময়ের জন্য তারা স্থির হয়। পরবর্তীতে দোয়াভাঙ্গা স্টপেজে বোগদাদ থামলে পেছন থেকে আইদি সাইড নিতে গেলে বোগদাদ বাসটি স্টপেজ থেকে বের হয়ে রাস্তার পুরো ডান দিকে এসে আইদিকে চাপ দেয়। এতে অল্পের জন্য গাড়িতে থাকা যাত্রীরা হতাহত থেকে বেঁচে যায়।
এদের এমন প্রতিযোগিতা এখন নিত্যদিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সড়কে চলাচল করা কয়েকজন যাত্রী জানান, এসব অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য এখন এই দুই পরিবহনে উঠতে রীতিমতো ভয় লাগে। যাত্রীদের কথা চিন্তা করলে কে আগে যাবে, কে পরে যাবে এসব তারা কখনোই করতো না। আইদি পরিবহনের আগে যখন এই রুটে রিলাক্স পরিবহন আসে ঠিক তখনও একই প্রতিযোগিতার কারনে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটে এবং একসময় রিলাক্স বাসের সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক এখনো এই রুটে একই অবস্থা।
তবে অধিকাংশ যাত্রীদের অভিযোগ এমন যে, বোগদাদ বাসের আধিপত্য বিস্তারের কারণেই এই রুটে এমন প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়৷ এই রুটে তাদের বিপরীতে কোন সার্ভিস আসলেই সেটা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা শুরু হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছিলো রিলাক্স আসার পরে।
তবে সম্প্রতি আইদি ও বোগদাদ বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং রেষারেষি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মানুষ।


