ইয়াবা ও গাঁজা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার:

মাদকদ্রব্য সমাজের জন্য এক নীরব ঘাতক। ২০ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদে ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ নারীসহ পাঁচজনকে কচুয়ায় আটকের খবর নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযান মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা। তবে শুধু আটক ও মামলা করলেই মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ হবে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ।

ইয়াবা ও গাঁজা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহ, পারিবারিক অশান্তি, অপরাধপ্রবণতা এবং নানা সামাজিক সমস্যা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের উৎস এবং এর পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কেবল খুচরা বিক্রেতা বা বহনকারীদের আটক করে মূল হোতাদের আড়ালে রাখলে মাদকবিরোধী অভিযান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

আমরা আশা করি, চলমান এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে থাকবে না; বরং নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়াতে হবে।

সর্বোপরি, পরিবার, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ।