নিখোঁজ নয় আত্মগোপনে ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সপরিবারে উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করেছে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে পটিয়া থানার দলাঘাটা দাশপাড়া এলাকা থেকে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে পিয়ম দাস ও রুপম দাসকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ আগস্ট রাতে ঋণের কারণে পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপন করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরদিন রাসেল খান (৩০) নামে এক ব্যক্তি থানায় এসে অভিযোগ করেন, পিন্টু দাসের কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে তিনি টাকা নিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দেখেন পিন্টুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভাড়া বাসায় তালা ঝুলছে।

এরপর গত ২২ আগস্ট পিন্টু দাসের বাসার মালিক রাসেল খান তার নাম উল্লেখ করে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। জিডি নম্বর-১৩৯৬, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬।

এদিকে নাছিমা আক্তার নামে এক নারী অভিযোগ করেন, স্বর্ণ কেনার জন্য তিনি পিন্টু দাসকে অগ্রিম ৪৬ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আব্দুল কুদ্দুস নামে আরেক ব্যক্তি জানান, স্বর্ণ নেওয়ার জন্য তিনি পিন্টু দাসকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বর্ণ না দিয়ে পিন্টু দাস আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পিন্টু দাসের নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে কুমিল্লার দক্ষিণ ঠাকুরপাড়ায় পিন্টুর শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে না পেয়ে রাঙামাটিতে তার ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, পিন্টু দাস দুই দিন আগে রাঙামাটিতে তার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দলাঘাটা দাশপাড়া এলাকা থেকে পরিবারের চার সদস্যকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুর ২টার দিকে তাদের চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, উদ্ধার করা চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আত্মগোপনের পেছনে কোনো মহলের উসকানি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল কি না? সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

তিনি আরও জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা না হলে তাদের আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় দেওয়া হবে।

প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবির, চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফয়েজ আহমেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস আলম, অভিযান পরিচালনাকারী এসআই (নিরস্ত্র) গাজী কালামসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।