স্টাফ রির্পোটার:
ফলাফলের খাতায় তিনজনের নাম পাশাপাশি। তিনজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে, পাশাপাশি চাঁদপুর জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে। তবে সাফল্যের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাদের স্বপ্ন তিন রকম। কেউ মানুষের সেবা করতে চান চিকিৎসক হয়ে, কেউ কম্পিউটার প্রকৌশলী হয়ে প্রযুক্তির জগতে কাজ করতে চান, আবার কেউ মহাকাশের রহস্য উন্মোচনে হতে চান জ্যোতির্বিজ্ঞানী।তারা হলেন—চাঁদপুরের তিন কৃতী শিক্ষার্থী রূপকথা সাহা জয়া, নাফিমুল হাসান নিহাল ও মারিয়া মাহজাবিন খান। গত সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সাফল্যের তথ্য জানা যায়।
ফল প্রকাশের পর কথা হয় জেলার সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত এই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। সাফল্যের পেছনের গল্প, পড়াশোনার প্রতি তাদের মনোযোগ এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানান তারা।মানুষের সেবায় চিকিৎসক হতে চান রূপকথাচাঁদপুর জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রূপকথা সাহা জয়া। জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ২০৯ নম্বর।
শুধু ভালো ফলাফল নয়, রূপকথার স্বপ্ন আরও বড়। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অসুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
রূপকথার বাবা চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক জীবন কানাই সাহা। মা রূম্পা রানী সাহা গৃহিণী। পরিবারের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের মিশন রোড বাগানবাড়ী এলাকার ইন্দ্রলোক বাসায় বসবাস করেন তিনি।
প্রযুক্তির জগতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিহালের
জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছেন আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিমুল হাসান নিহাল। জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ২০২।নিহালের আগ্রহ কম্পিউটার ও প্রযুক্তির জগতে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন কিছু করার স্বপ্নই তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রে।
নিহালের বাবা মঞ্জুরুল আলম চট্টগ্রামে মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মা নাছিমা বেগম গৃহিণী। পরিবারের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড় এলাকায় বসবাস করেন নিহাল। তাদের গ্রামের বাড়ি হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী গ্রামের খলিফা বাড়িতে।
মহাকাশের রহস্য জানতে চান মারিয়া
জেলায় তৃতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন আল-আমিন একাডেমির ছাত্রী ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া মাহজাবিন খান। জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ১৯৯। মারিয়ার স্বপ্ন অন্য দুই কৃতীর চেয়ে একটু ভিন্ন। আকাশের তারা, গ্রহ-নক্ষত্র আর মহাবিশ্বের অজানা রহস্য তাকে টানে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানে গবেষক হতে চান তিনি। গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু আবিষ্কার করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্নও রয়েছে তার।
মারিয়ার বাবা মো. মোশতাক আহমেদ খান একজন ব্যবসায়ী। মা শেখ খাদিজা বেগম ফরক্কবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। বাবা-মায়ের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোডের প্রিমিয়ার টাওয়ারে বসবাস করেন মারিয়া। ফলাফলের সাফল্য, স্বপ্নের পথে যাত্রা।
তিনজনের পথ আলাদা, স্বপ্নও আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় তাদের মিল—সাফল্যকে তারা শেষ গন্তব্য মনে করছেন না। বরং ভালো ফলাফলকে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
রূপকথা মানুষের সেবায় চিকিৎসক হতে চান, নিহাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান আর মারিয়া মহাবিশ্বের অজানা রহস্য নিয়ে গবেষণার স্বপ্ন দেখেন।
চাঁদপুরের এই তিন কৃতী শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তাদের পরিবার নয়, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলার জন্যও গর্বের। এখন তাদের চোখ সামনে—নিজ নিজ স্বপ্নের দিকে। সাফল্যের এই তিন পথ ধরে তারা কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।


