ভাঙা ঘরে সানু বেগমের জীবনযুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার:

মায়ে থাকতে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে ঘরটা ঠিক করেছিলাম। এখন সেই ঘরটাই ভেঙে যাচ্ছে। কথাগুলো বলতে বলতে চোখে-মুখে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে ৬০ বছর বয়সী সানু বেগমের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার সবচেয়ে বড় ভয়-মাথার ওপরের এই ছোট্ট টিনের ঘরটুকুও যদি একদিন ভেঙে পড়ে, তাহলে কোথায় দাঁড়াবেন তিনি?

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাবার বাড়ির ভিটাতে ছোট্ট একটি দোচালা টিনের ঘরেই সানু বেগমের বসবাস। স্বামী নেই, সন্তান নেই। আপন বলতে বলতে এই ভিটেটুকুই। অথচ সেই শেষ আশ্রয়টুকুও এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

ঘরের ভেতরে একটি মাত্র চৌকি। নেই বিদ্যুৎ, নেই ফ্যান, নেই কোনো আধুনিক আলোর ব্যবস্থা। সন্ধ্যা নামলেই কুপি বা হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় শুরু হয় তার রাত। বিদ্যুতের আলোয় যখন চারপাশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ব্যস্ত, তখন সানু বেগমের ঘরে জ্বলে ছোট্ট একটি কুপি যেন আধুনিক সময়ের মাঝেও আটকে থাকা এক পুরোনো জীবনের প্রতিচ্ছবি।

দিনের বেলাতেও তার জীবন খুব একটা সহজ নয়। নিজের বলতে কোনো আয় নেই। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি ঘুরে বেড়ান। কেউ একবেলা খাবার দিলে সেটিই তার খাবার। কখনো খাবার জোটে, কখনো জোটে না। এভাবেই মানুষের দয়া ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর।

শনিবার সকালে কমলাপুর গ্রামে সানু বেগমের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ছোট্ট টিনের ঘরটির বিভিন্ন অংশ জীর্ণ হয়ে গেছে। ঘরের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড়-বাতাসেও সেখানে থাকা কতটা কষ্টকর। অথচ এই ঘরটিই তার কাছে পৃথিবীর শেষ আশ্রয়।
সানু বেগমের জীবনে চাওয়ার তালিকাও খুব বড় নয়। নেই দামি বাড়ির স্বপ্ন, নেই বিলাসী জীবনের আকাঙ্ক্ষা। তার চাওয়া শুধু একটি নিরাপদ ঘর, যেখানে বৃষ্টির রাতে ভয় নিয়ে ঘুমাতে হবে না। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বসে থাকতে হবে না। জীবনের শেষ দিনগুলো একটু নিরাপদে, একটু স্বস্তিতে কাটাতে চান তিনি।

স্থানীয় আলফালা সংগঠন, চাঁদপুর ও এলাকাবাসী অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

হয়তো কারও কাছে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া খুব বড় কিছু নয়। একটি বিদ্যুৎ সংযোগও হয়তো কারও জীবনের সামান্য একটি সহায়তা। কিন্তু সানু বেগমের মতো একজন নিঃসঙ্গ মানুষের কাছে এই সামান্য সহায়তাই হয়ে উঠতে পারে বাকি জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।