হাসান আল মামুন:
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত গার্মেন্টস শ্রমিক ইমান (১৬) অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না।
আহত ইমানকে নিয়ে তার পিতা সিএনজি চালক মনিরের চিন্তার কোন শেষ নেই। কি হবে তার ছেলের ভবিষ্যৎ। হাতে গুলি লাগায় গার্মেন্টসের চাকুরিও হারাতে হয়েছে তাকে। এমন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তা ছেয়েছেন তার পরিবার। আহত ইমান আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের মহজমপুর গ্রামের সিএনজি চালক মনির বেপারীর ছেলে।
আহত ইমানের পিতা মনির বেপারী জানান, গত ৪ আগষ্ট ঢাকা তাতিবাজার মোড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেয় ইমান। ঐ আন্দোলনে পুলিশের একটি গুলি তার হাতে প্রবেশ করে। ঐসময় ঢাকার কোন হাসপাতা তার ছেলেকে চিকিৎসা দেয়নি। বুলেটের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে একটি ফার্মেসী থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। সিএনজি চালক মনির হোসেন তার ছেলের চিকিৎসার জন্য উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সফিক পাটোয়ারীকে বিষয়টি জানান। তিনি ইমান হোসেনকে হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করেন।
সিএনজি চালক মনির হোসেন তার ছেলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং তার চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সহযোগীতা কামনা করেছেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আহত ইমান জানান, ঢাকা তাতিবাজার এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। ঐ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যকরে গুলি নিক্ষেপ করে। পুলিশের একটি গুলি এসে আমার হাতে ডুকে যায়। আমার হাতে গুলি লাগলে প্রচন্ড ব্যথায় চিৎকার দিতে থাকি।
একজন লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কোন চিকিৎসা না দেওয়ায় আমি একটি ফার্মেসীতে গিয়ে অনেক অনুরোধ করে গুলির বুলেট খুলি। তখন ফার্মেসীর লোকজন আমাকে দেশে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন। আমি বাড়িতে এসে হাইমচর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা ক্ষত শুকালেও এখন এই হাতে কোন কাজ করতে পারি না। হাতে এখনো প্রচুর ব্যথা। আমার হাতে সমস্যা থাকায় আমি যে গার্মেন্টসে কাজ করতাম তারা কাজে নেয় না। আমি এখন চিকিৎসা নিতে পারছি না। আমি এমন অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।


