ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধির ওপর হামলা চেষ্টা হয়েছে। তাকে মারতে বারবার উদ্যত হয় কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা তাকে হুমকি ধমকি দেয় ও অপমানিত করে। আশিক নামের ছাত্রদলের পরিচয়ধারী ও তার সহযোগি ৮-১০ জন ওই সন্ত্রাসী আচরণ করে। এর আগে আশিকের নেতৃত্বে খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগের লটারিতে ইউএনওকে বাধা প্রদান করা হয়। ওই খবর জানতে চেষ্টা করলে মানবজমিন প্রতিনিধিকে বাধা প্রদান এবং ওই ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। ২রা মার্চ বেলা আড়াই ঘটিকায় সম্পূর্ণ ঘটনা ঘটেছে ইউএনও অফিস ভবনের ভিতরে। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকাল তিন ঘটিকায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দোষীদেরকে আইনের আওতায় নেয়ার আহ্বান ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে ২রা মার্চ লটারির তারিখ নির্ধারিত ছিলো। ১৫টি ইউনিয়নের আবেদন কারীসহ প্রায় দুই শতাধীক ব্যক্তি ইউএনও অফিসে উপস্থিত হন। তাদের সকলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। লটারি চলাকালে ২, ৭, ১০ ও ১১ নম্বর ইউনিয়নের লটারিতে বাধা প্রদান করে আশিক ও তাদের সহযোগীরা। তারা আবেদন কারীকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে দাবী করে। তবে, সূত্র দাবী করে করেছে, গ্রুপ ইনের কারণে বাধা প্রদান করা হয়েছে। পরিস্থিতির শিকার হয়ে ১টি (১১নং চরদুঃখিয়া) ইউনিয়নের লটারি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বাধা প্রদানের এই খবর শুনে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি ছাত্রদল নেতা শাওন পাঠানের কাছে থেকে জানতে চান। পাশে থাকা আশিক পাটওয়ারী ও তার প্রায় ৮/৯ জন সহযোগী প্রতিনিধির ওপর হামলে পড়ে ও বিকট চিৎকার করে। চোখ রাঙ্গিয়ে হাত তুলে নানা অঙ্গভঙ্গী করে কথা বলে। তারা, প্রতিনিধি আবু হেনা মোস্তফা কামালকে হুমকি ধমকি দিয়ে বলে কে, কাকে বাধা দিয়েছে এটা আপনি জানার কে। আপনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। সব কিছুতে হাত দেবেন না। তার সমর্থনে তার সহযোগিরা প্রতিনিধিকে অকথ্য, অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। তারা হুমকি দিয়ে বলে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ করা যাবে না। তারা সমস্বরে একই কথা বলে ও প্রতিনিধিকে অপদস্ত করে। সেখানে উপস্থিত বিএনপি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল খালেক পাটওয়ারী আশিক ও অন্যদের উসকানি দিয়ে বলে হাত থাকতে মুখে কথা বলো কেনো। দুই একটা সাংবাদিক জীবনে মাইরা ফালাইলে কিছু আইবো যাইবো না। সেখানে উপস্থিত ১৪নং ফরিদগঞ্জ (দঃ) ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চিৎকার দিয়ে অশালীন কথা বলে ও শারীরিকভাবে হেনস্তার জন্য হুকুম দেয়।
এদিকে, সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে আবদুল খালেক পাটওয়ারী আয়েশেই দিন পার করেছে। তিনি তিনবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, দলের ও অঙ্গ-সহযোগী কোনো সংগঠনের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আশিক ও তার দলবল অবৈধভাবে ফরিদগঞ্জ মাছ বাজারের টোল আদায় করে। ৫ তারিখের পর হতে সে ও তার সহযোগিরা এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। এ নিয়ে রিপোর্ট হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গতকাল পৌরসভার সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে ও ভেকুর চাবী নিয়ে গেছে আশিক ও তার দলবল।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ মো. ইউনুস বলেছেন, আমি ঠুটু জগন্নাথ। আমরা শুধু জি হুজুর করতে হয়। আমাদের কোনো কথার মূল্য নেই। এই আশিক প্রকৃতভাবে দলের বা অঙ্গ সংগঠনের কোনো পদে নেই। তারপরও, তাকে কে বা কারা পালে ও দলীয় পরিচয়ে কুকর্ম করছে আমি জানি না। তবে, খালেকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে, দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আশিককে পৌর বিএনপির নেতারা লালন পালন করে।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভায় ৩০ জন সদস্য উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ, নিন্দা জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সভাটি সমাপ্ত হয়েছে বিকাল সোয়া পাঁচ ঘটিকায়।
এ বিষয়ে, গতকাল দুপুরে ইউএনও সুলতানা রাজিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ৩/৪টি ইউনিয়নের লটারিতে বাধা দেয়া হয়েছে।, তারা যে সকল দাবী করেছে, সরকারী নীতিমালায় সে সব উল্লেখ নেই। তবুও, আমি উপস্থিত নেতা ও লোক জনের প্রতিক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লটারিতে ১৪টি ইউনিয়নে ৬২ জনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।


