হাসান আল মামুন:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাইমচর উপজেলায় মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাটকা জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টা থেকে ২ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোসার মোড় এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসন বিপুল পরিমাণ জাটকা মাছসহ অন্যান্য মাছ জব্দ করে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাছ বহনকারী রিপন হোসেনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও, ঘরে মাছ মজুত রাখার অভিযোগে ১ জন মহিলাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ অভিযান চলছে। এই অভিযানের সময়, চরভৈরবী সুপারি বাগান এলাকায় জাটকা কেনাবেচার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের সহায়তায় আনসার সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে সবাই পালিয়ে যায়। পরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাটকা ও অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ জন ভ্যানচালকের কাছ থেকে জাটকা ও অন্যান্য মাছ আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই জাটকা শিকার ও বিক্রির সাথে এখানকার অনেকেই জড়িত থাকতে পারেন। এটি একটি সিন্ডিকেট হতে পারে। বিভিন্ন বাড়িতে মাছ ও মাছের বরফ পাওয়া গেছে। নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার, স্থানীয় বিএনপি নেতা, চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব ও গ্রাম পুলিশকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ পালাক্রমে ডিউটি করবে এবং অন্যান্য জায়গায় মেম্বার ও ইউপি সচিব ডিউটি করবে। এরপরও জাটকা কেনাবেচার খবর পেলে স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।
ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ, তাই সবার উচিত এই সম্পদ রক্ষা করা। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযানকালে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম আশরাফুল হক, মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মচারী, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, আনসার সদস্য, সাংবাদিক ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


