গৃহবধূ হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

ফরিদগঞ্জে আলোচিত গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশু (২০) হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ঘাতক মো. সুজন খান (৩১)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন খান ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমঘুয়া গ্রামের মসজিদসংলগ্ন খান বাড়ির আবুল বাশার খানের ছেলে।

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, সুজন বিয়ের পূর্ব থেকে জায়েদা আক্তার মিশুকে উত্যোক্ত করত। যার কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয় পরিবার। বিয়ের পরে মেয়ের স্বামী সোহেল বেপারী কাতার চলে যায়। এ সুযোগে বখাটে সুজন তাকে পুনরায় বিরক্ত করা শুরু করে। ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ভোর ৫টার দিকে ঘরে ঢুকে বড় একটি ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি মিশুকে আঘাত করে। এসময় মিশু মা সালেহা বেগমের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এর ফাঁকে ঘাতক সুজন পালিয়ে যায়। তাদের সহযোগিতায় মিশুকে ফরিদগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিশুকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে ঢাকা নেয়ার পথে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনায় ওই দিনই মিশুর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে সুজন খানকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তৎপর চালিয়ে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই প্রধান আসামি সুজন খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) উনুমং মায়মা তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথি পর্যালোচনা ও আসামির অপরাধ স্বীকারের সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত সুজন খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন এবং নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বাকিদের খালাস দিয়েছেন।