সুমন আহমেদ:
মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ওটারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ মিয়াজী তাঁর নিজস্ব জমি ও দুই মৌজার মাঝখানের সরকারি হেলোটের জায়গা দখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী লতিফ মিয়াজীর অভিযোগে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অনুলিপিও প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লতিফ মিয়াজীর অভিযোগে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অনুলিপিও প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগে লতিফ মিয়াজী উল্লেখ করেন, “৫৬ নং আবুরকান্দি মৌজার ৪৬৮ নম্বর দাগের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি—যার প্রস্থ ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট—তা প্রতিপক্ষ মো. কাওসার ও মো. বাশার গং জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায় এবং জায়গাটি অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যায় এবং দখল করে রাখে। এছাড়া দুই মৌজার মধ্যবর্তী সরকারি হেলোটের জায়গাটিও তারা নিজেদের দখলে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ করলে সার্ভেয়ার নিরপেক্ষভাবে সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান দিয়ে খুঁটি স্থাপন করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা সেই খুঁটিও উপড়ে ফেলে, প্রশাসনের নির্দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে।”
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রাখায় আমি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে অন্যের জায়গা দখল করার সাহস না পায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ যখন সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সহায়তা চায়, তখনও যদি প্রভাবশালীরা খুঁটি উপড়ে ফেলে—তবে আইনের শাসন কোথায়? আমি উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে অভিযোগের বিবাদী পক্ষের মো. কাওসার, মো. বাশার জানান, আমরা আমাদের জায়গার মাটি কেটেছি। তাতে সমস্যা কিসের? সার্ভেয়ার মাপে ভূল করছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্বরত সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নিরপেক্ষভাবে সীমানা নির্ধারণ করি এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লাল নিশান দিয়ে খুঁটি স্থাপন করি। প্রতিপক্ষরা যদি খুঁটি উঠিয়ে ফেলে থাকে, তবে সেটা পরিষ্কারভাবে সরকারি কাজের বাধা সৃষ্টি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।”
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ প্রাপ্তির পর আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি হেলোটের জায়গা দখল কিংবা সার্ভেয়ারের স্থাপন করা চিহ্ন বিনষ্ট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সঠিক তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


