ধরা পড়ছেনা ইলিশ: কারণ জানালেন মৎস্য কর্মকর্তা

সুমন আহমেদ:

মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জাল ফেলেও দেখা মিলছে না ইলিশের। মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। যে মাছ পাচ্ছেন তাতে লাভ দূরে থাক, নৌকার জ্বালানি খরচই উঠছে না। এতে মাছ শিকারে যেতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন জেলেরা। আর এতে অভাব, অনটন আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় ধারদেনা আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল বানিয়ে ও নৌকা মেরামত করলেও সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। তবে ইলিশ ধরা না পড়লেও জেলেদের জালে পাঙাশ, রুই, কাতল, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।

ইলিশের সরবরাহ কমায় মতলব উত্তরের আমিরাবাদ, এখলাসপুর, বাবুবাজার বাজারে মৎস্য আড়ৎ গুলোতে দামও বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৪০০-৫০০ টাকা। গতকাল ১ কেজি ওজনের লোকাল ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৮০০-৩০০০ টাকা। তবে এক কেজি ওজনের ইলিশ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০০-২১০০ টাকা। ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০-১৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছর এই দিনে ঘাটগুলোতে রাত-দিন হাঁকডাক দিয়ে ইলিশ বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বর্তমানে সেখানে এখন ইলিশশূন্যতায় সুনসান নীরবতা। মেঘনায় ইলিশ না থাকায় অনেক জেলে এ পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে ঝুঁকছেন।

গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল এবং জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে আগামী মার্চ ও এপ্রিলে মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকটি প্রভাশালী চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধ চরঘেরা মশারি জাল, বেহুন্দি জাল ও বেড় জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ (চাপিলা) শিকার করে আসছে। এর ফলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা নিধনের ফলে ইলিশের আকাল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল।

এদিকে এসব অবৈধ জাল বিনষ্ট করতে তৎপর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। প্রায় সময় বিভিন্ন মাছঘাট থেকে অভিযান চালিয়ে ওইসব অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করে প্রশাসন।

উপজেলার বাবুরবাজার, এখলাছপুর, আমিরাবাদসহ কয়েকটি মাছ ঘাটের কয়েকজন জেলে জানান, সকল কষ্ট স্বীকার করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে গত মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। আবার সামনে রয়েছে ২মাস জাটকা রক্ষায় অভিযান।এহন নদীতে মাছ ধরতে যাইয়া খালি হাতে ফিরছি। সংসারে বউ বাচ্চা নিয়া কেমনে বাছুম এই চিন্তায় আছি। দাদনদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা এনে জাল ও নৌকা মেরামত করে অনেক আশায় নদীতে নামছিলাম কিন্তু মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি।

মৎস্য ব্যবসায়ী বিমল চন্দ্র বলেন, মৎস্য আড়ৎগুলোতে ইলিশের আমদানি কম হলে, দাম বেড়ে যায়। তবে ইলিশ ছাড়া নদীতে অন্যান্য মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, মতলবের মেঘনা নদীতে এখন পানির পরিমাণ কম এবং দূষিত পানির কারণে এখনে ইলিশের পরিমান কিছুটা কম। মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসকে ইলিশের মূল মৌসুম ধরা হয়। এখন এ সমটাকে ‘ডাল সিজন’ মনে করা হয়। তাই মাছ না পাওয়ায় হতাশার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, নদীতে জাটকা রক্ষার অভিধান চলছে। এবং জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে আগামী মার্চ ও এপ্রিলে নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।